পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিনের যুগান্তকারী সাফল্য: আরও ১৫ হাজার মেশিন দিচ্ছে সরকার
সংবাদ সংগ্রহে: মোঃ গোলাম আরিফ, কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়, পাবনা।
কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজের পচন রোধ, দীর্ঘ মেয়াদে মানসম্মত সংরক্ষণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’। আধুনিক এই যন্ত্রের কার্যকারিতা ও সফলতা স্বচক্ষে দেখতে পাবনা সদর উপজেলা পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুর রহিম।
০৬ আগস্ট (২০২৬) সকালে তিনি পাবনা সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া ব্লকের মধুপুর গ্রামের কৃষক মোঃ বাকি বিল্লাহর স্থাপিত এয়ার ফ্লো মেশিনটি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রকল্পটির সাফল্যে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের সঙ্গে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় কৃষকদের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক বলেন, "বিগত বছরগুলোতে পেঁয়াজের সংরক্ষণকালীন অপচয় এবং চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেত। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো, আবার দাম স্বাভাবিক হলে আমদানি বন্ধ রাখা হতো। এই স্থায়ী সংকট উত্তরণে গত বছর দেশজুড়ে ১১ হাজার ৭০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হয়। এর সুফল হিসেবে গতবছর দেশে নামমাত্র পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ১৫ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি পেঁয়াজ মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আগামী ছয় মাসের চাহিদা অনায়াসেই পূরণ করা সম্ভব। এয়ার ফ্লো মেশিনের এই অভাবনীয় সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে সরকার নতুন করে আরও ১৫ হাজার মেশিন বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে এসব মেশিন কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি।
আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়ে মহাপরিচালক বলেন, "যেসব মসলাজাতীয় ফসল আমাদের আমদানি করতে হয়, সেগুলোর দেশীয় উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। ফসল সংগ্রহোত্তর ও সংরক্ষণকালীন অপচয় রোধে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।" ভবিষ্যতে আধুনিক কৃষির সম্প্রসারণে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পেঁয়াজ ও পাট বীজ উৎপাদন এবং তার সঠিক সংরক্ষণ, বর্ষা মৌসুমে বস্তায় ও পলিমালচ পদ্ধতিতে আধুনিক মরিচ চাষসহ নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে কৃষকদের যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। এ সময় তিনি কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ, পাবনার উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম, বগুড়া কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ এনামুল হক, পাবনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাকিরুল ইসলাম এবং কৃষি তথ্য সার্ভিস পাবনার, সহকারী তথ্য অফিসার, বাদল চন্দ্র সরকার। এছাড়া ডিএই পাবনা সদর উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।