সিরাজগঞ্জে বারটানের উদ্যোগে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
|
| প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুষ্টিপ্লেট বিতরণ করছেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম এ মজিদ মন্ডল[cite: 1]। |
বিশেষ প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি সফলভাবে পরিচালনা করেন বারটান সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম এ মজিদ মন্ডল[cite: 1]। এতে সহায়তামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বারটানের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনাব সাদ্দাম হোসেন ও জনাব মশিউর রহমান।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য ও মূল সেশনে বক্তারা বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান বাড়ানো কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত সুস্থতার জন্যই জরুরি নয়, বরং একটি সুস্থ-সবল পরিবার ও মেধাভিত্তিক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি হলো নারী।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, পরিবারে পুষ্টিকর খাবারের তালিকা তৈরি, শিশুদের যত্ন প্রদান এবং প্রতিদিনের স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন নারীরা। বিশেষ করে কিশোরী বয়স থেকেই যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়, তবে ভবিষ্যৎ মাতৃস্বাস্থ্য রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি জন্ম নেওয়া শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তাই সমাজে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সঠিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে নারীদের সুশিক্ষিত ও সচেতন করার বিকল্প নেই।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষি ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন যে, দামী খাবার খেলেই যে শরীর সুস্থ থাকবে—এমনটি নয়। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের মাধ্যমে সাধারণ রোগব্যাধি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
- সুষম খাদ্য ও পরিচ্ছন্নতা: পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি সঠিক উপায়ে হাত ধোয়া, রান্নাবান্নায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ ও ফুটানো পানি পানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- শারীরিক পরিশ্রমে মনোযোগ: অলস জীবনযাপন ত্যাগ করে নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- চিকিৎসকের পরামর্শ: নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য নিয়ে নারীদের অবহেলা না করে যে কোনো শারীরিক সমস্যায় সঠিক সময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে কিশোরী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্য বয়সভিত্তিক খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান, অতিরিক্ত পুষ্টির অভাবজনিত রোগব্যাধি এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের বিশেষ যত্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এছাড়া দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কীভাবে আমাদের আশেপাশে গড়ে ওঠা স্থানীয় ও সহজলভ্য ফলমূল, শাকসবজি ও পুষ্টিকর উপাদান যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অংশগ্রহণকারী নারীরা কেবল নিজেদের পরিবারেই সীমাবদ্ধ রাখবেন না; বরং তাঁদের কর্মক্ষেত্র ও সমাজের অন্যান্য নারীদের মাঝেও ছড়িয়ে দিয়ে একটি স্বাস্থ্য সচেতন ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।