পাবনার সুজানগরে সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টিসচেতনতা বৃদ্ধিতে ৩ দিনব্যাপী ফলিত পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন

পাবনার সুজানগরে সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টিসচেতনতা বৃদ্ধিতে ৩ দিনব্যাপী ফলিত পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন

সংবাদ সংগ্রহে: মোঃ গোলাম আরিফ, পাবনা
সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার সুজানগরে সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য অর্জন, গ্রামীণ জনপদে পুষ্টির সুষম বণ্টন এবং সর্বস্তরে পুষ্টিসচেতনতা বৃদ্ধির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে তিন দিনব্যাপী ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি বিষয়ক’ প্রশিক্ষণ কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) আঞ্চলিক কার্যালয়, সিরাজগঞ্জ-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন কৃষিবিদ মোঃ আসাদুজ্জামান

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন কৃষিবিদ মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা কৃষি অফিসার, সুজানগর, পাবনা।

সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসের সুপরিসর প্রশিক্ষণ হলরুমে আয়োজিত এই তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ আলমগীর হোসেন, উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং বারটান সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মশিউর রহমান। অতিথিবৃন্দের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

ফলিত পুষ্টি ও সুষম খাদ্যের অপরিহার্যতা:

উদ্বোধনী সেশনের উন্মুক্ত আলোচনায় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞ বক্তারা বলেন, কেবল নামেমাত্র খাবার গ্রহণ করলেই শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় না; বরং পুষ্টির সঠিক বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দৈনন্দিন জীবনে সঠিক ও সুষম খাদ্য নির্বাচন এবং তা গ্রহণের বাস্তব প্রক্রিয়াকেই ফলিত পুষ্টি বলা হয়। সহজ কথায় এটি হলো খাদ্যভিত্তিক জীবনদর্শন ও পুষ্টির ব্যবহারিক প্রয়োগ। একটি সুস্থ, সবল, মেধাবী ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সমাজের প্রতিটি স্তরে পুষ্টিসচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

বক্তারা আরও জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। পুষ্টির বিষয়টি কেবল পেট ভরে খাবার খাওয়ার সংকীর্ণ সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়; বরং এটি খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা, পুষ্টির বৈচিত্র্য রক্ষা করা, নিরাপদ উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং সঠিক রন্ধন প্রণালী আয়ত্ত করার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।

প্রশিক্ষণের বহুমুখী উদ্দেশ্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রত্যাশা:

আয়োজক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয় যে, এই তিন দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এর মাধ্যমে মূলত নিচের বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে:

  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের মাঝে সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টির অপরিহার্যতা সম্পর্কে গভীর জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
  • সুষম খাদ্যাভ্যাস গঠন: স্থানীয় ও সহজলভ্য উপাদান দিয়ে পরিবারে পুষ্টিকর খাবারের তালিকা তৈরি এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার কৌশল শিখানো।
  • দক্ষতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর: দৈনন্দিন জীবনে পুষ্টিবিষয়ক বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা।

প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীগণ এখান থেকে প্রাপ্ত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান নিজ নিজ পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের চারপাশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এর ফলে সামগ্রিকভাবে সমাজ থেকে অপুষ্টি দূর করা এবং একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলা সহজ হবে।

অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ:

উদ্বোধনী এই তিন দিনব্যাপী ফলিত পুষ্টিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় সমাজকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ অত্যন্ত প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং বিশেষজ্ঞরা তার সন্তোষজনক সমাধান প্রদান করেন।

💡 কৃষি ও পুষ্টি বিষয়ক বিশেষ পরামর্শ:
কৃষকের ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ও পুষ্টি পরামর্শ দেখুন
সংবাদের বিস্তারিত ও উৎস: কৃষক সেবা ওয়েবসাইট
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)